সীতাকুণ্ডে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করলেন গ্রামবাসী
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম):
সীতককুণ্ডে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করলেন গ্রামবাসী
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া করেছেন। জনরোষের শিকার নেতারা হলেন—কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও রায়হান উদ্দিন। তাদের মধ্যে জসিম জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে ইউপি নির্বাচন করেছিলেন এবং রায়হান সীতাকুণ্ড পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার।
গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামে সমুদ্র উপকূলে আওয়ামী লীগ নেতা ও পলাতক আমি-ডামি নির্বাচনের সাবেক এমপি এস এম আল মামুনের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের ক্রয় করা ১০০ একর কৃষি জমি সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে ভরাট করতে গিয়ে গ্রামবাসীর রোষানলে পড়েছেন জামায়াত নেতারা।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রায় চার-পাঁচশত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া দিলে জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও কমিশনার রায়হান উদ্দিনসহ অন্য জামায়াত নেতারাও পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় কয়েকজন জামায়াত নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। তবে এ ঘটনার দায় নিতে নারাজ জেলা জামায়াতে ইসলামী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও কমিশনার রায়হান উদ্দিনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক লোক সৈয়দপুরের সমুদ্র উপকূলে কৃষি জমি ভরাটে যান। সেখানে প্রায় ১০০ একর কৃষি জমি ভরাটের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন তারা। তবে পরে স্থানীয় কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন জামায়াত নেতারা। পালানোর সময় কয়েকজন জামায়াত নেতা আহত হয়েছেন। কৃষকরা এলাকার মসজিদে গিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াতের ব্যানারে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মিছিলে অংশ নেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন। ছবি : আমার দেশ
কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াতের ব্যানারে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মিছিলে অংশ নেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন। ছবি : আমার দেশ
অভিযোগ উঠেছে, কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও পৌর জামায়াত রায়হান উদ্দিন গেল বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা, আকিলপুর, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড এলাকায় শত শত ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করছেন। তাদের কাছে ড্রেজার থাকায় সমঝোতার মাধ্যমে সোমবার প্যাসিফিক জিন্সের মালিক ও এসএম আল মামুনের চাচাতো ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী সৈয়দপুরের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামে পাঠান।
এদিন দুপুরে আড়াইটায় তারা ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে উৎপাদিত ফসলের জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন জামায়াত নেতা রায়হান উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন। পরে সমুদ্র থেকে তোলার বালুর পাইপ লাগানোর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা জড়ো হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ সময় তারা স্থাপিত বালুর পাইপ ফেলে দেয় এবং জামায়াত নেতা জসিম ও রায়হান উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তারা প্যাসিফিক জিন্সের মালিকের হয়ে বালু ভরাট শুরু করেছেন বলে জানান।
পরে কৃষকরা জানিয়ে দেন ফসল থাকা অবস্থায় কোনো বালু ভরাট করা যাবে না। বালু ভরাট করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন দেখাতে হবে এবং তিন মাস আগে স্থানীয়দের জানাতে হবে। কোটি কোটি টাকার উৎপাদিত ফসল মাড়িয়ে বালু ভরাট চলবে না। একপর্যায়ে তারা বাড়াবাড়ি করলে স্থানীয়রা দুই জামায়াত নেতা জসিম ও রায়হানকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গণধোলাই দেন। পরে তারা কোনোমতে জনরোষ থেকে বেঁচে পালান।
কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াতের ব্যানারে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মিছিলে অংশ নেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন। ছবি : আমার দেশ
কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াতের ব্যানারে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মিছিলে অংশ নেন অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন। ছবি : আমার দেশ
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের সাবেক আমি-ডামি নির্বাচনের এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আল মামুনের চাচাতো ভাই প্যাসিফিক জিন্সের এমডি আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মো. তানভীর কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পলাতক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ১০০ একর কৃষি জমি ক্রয় করে নেন। ওই সময় স্থানীয়দের জিম্মি সরকারি প্রকল্পের কথা বলে জমিগুলো কৌশলে ক্রয় করে নেয়া হয়।
সে সময় তাজুল ইসলাম নিজামী জমির দালালি করে বিপুল অর্থের মালিক বনে যান। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সে সময় ভরাট করতে না পারলেও সম্প্রতি আবারও ভরাট করতে মরিয়া হয়ে ওঠে প্যাসিফিক জিন্স। তারেই অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে দুই জামায়াত নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় সৈয়দপুরে। সেখানে গিয়ে তারা কয়েকটি ড্রেজার সাগর পথে নিয়ে রাখেন সৈয়দপুর পয়েন্টে। কিন্তু পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড শুরু করলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পালিয়ে যান।
জানতে চাইলে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. মামুন জানান, আমাদের জানা মতে, তাজুল ইসলাম নিজামী জমিগুলো কিনতে প্যাসিফিক জিন্সকে সহযোগিতা করেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তারা ভরাট করতে পারছিল না। আজ তারা ভরাট করতে এলে এলাকাবাসী মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাড়িয়েছে। আমাদের দাবি কোনো কৃষি জমি ভরাট করা যাবে না। এতে স্থানীয়দের জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে।



















