ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি অনুদান স্কুল-মসজিদে বিতরণ করলেন এড. বারী ভূঁইয়া সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ১৬ জন গ্রেপ্তার লিবিয়ায় প্রবাসীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায়—গ্রেপ্তার ২ পবিত্র জুমার দিন আজ, শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ ইবাদতে মুসল্লিরা ফতুল্লায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমের অভিযোগে ১৬ জন গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার, স্বর্ণালংকার ও অস্ত্র উদ্ধার পিপিএম-সেবা পদকের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের এসপি হাবিবুর রহমান নারী কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটার পরও থামেনি হোটেল শাহীনের কথিত দেহ ব্যবসা পিকআপের ধাক্কায় সিদ্ধিরগঞ্জে অটোরিকশা দুমড়েমুচড়ে, আহত ৫ সিদ্ধিরগঞ্জে জুয়েল রানার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলকে ঝুঁকিতে রেখে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নদী ডাকাতি, দুধকুমারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
216

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং ১১:১১ পিএম.কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। রাতের আঁধারে নদীর বুকচিরে ড্রেজারের পাইপ, আর দিনের আলোয় চলছে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের’ রাস্তার কাজ- এই দুই চিত্র এখন একে অপরের ছায়া। দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর কথা যে প্রকল্পের সেই প্রকল্পই নদী ভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-বাসস্থানে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে- এ অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে কালীগঞ্জ ও নুনখাওয়া ইউনিয়নের মানুষ।চরাঞ্চল উন্নয়নের নামে নদী লুট- দুই প্রকল্পে বাজেট প্রায় ২ কোটি টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভবান্দেরকুটি মনিরের মসজিদ থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত ১১৫০ মিটার এএইচবিবি রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ ৮০ লাখ ২ হাজার ৮৫৮ টাকা। এখানেও একইভাবে নদী থেকে বালু তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কালীগঞ্জ ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বটতলা বাজার ওয়াপদা বাঁধ থেকে ভাটি দিকদারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে ৯৯ লাখ ৪ হাজার ১৭১ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যবহার করা হচ্ছে বালু- যা আনা হচ্ছে নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদী থেকে। গত ২৬ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ০২ ডিসেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুজ্জামান রিশাদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদার ও মেম্বারের কাছ থেকে মুচলেকা নেন।

কিন্তু বাস্তবে থামেনি ড্রেজার। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে ড্রেজারের পাইপলাইনের কিছুই অপসারণ করা হয়নি। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কালিগঞ্জে দিনে মেশিন বন্ধ রাখে দেখানোর জন্য। রাতে আবার পুরোদমে চলে। সিন্ডিকেটকে কেউ থামাতে পারে না। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, এগুলোর কাজ এভাবেই হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এই বক্তব্য পুরোপুরি অস্বীকার করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসমাইল হোসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এসবের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ।নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ বলেন, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করেছি, মুচলেকা নিয়েছি। যদি আবার চালায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনার মাধ্যমে জানলাম- আমরা এটার ব্যবস্থা নিচ্ছি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। এখন জানলাম, ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলকে ঝুঁকিতে রেখে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নদী ডাকাতি, দুধকুমারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
216

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং ১১:১১ পিএম.কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে বালু লুটের মহোৎসব। রাতের আঁধারে নদীর বুকচিরে ড্রেজারের পাইপ, আর দিনের আলোয় চলছে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের’ রাস্তার কাজ- এই দুই চিত্র এখন একে অপরের ছায়া। দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর কথা যে প্রকল্পের সেই প্রকল্পই নদী ভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-বাসস্থানে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে- এ অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে কালীগঞ্জ ও নুনখাওয়া ইউনিয়নের মানুষ।চরাঞ্চল উন্নয়নের নামে নদী লুট- দুই প্রকল্পে বাজেট প্রায় ২ কোটি টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভবান্দেরকুটি মনিরের মসজিদ থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত ১১৫০ মিটার এএইচবিবি রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ ৮০ লাখ ২ হাজার ৮৫৮ টাকা। এখানেও একইভাবে নদী থেকে বালু তুলে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কালীগঞ্জ ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বটতলা বাজার ওয়াপদা বাঁধ থেকে ভাটি দিকদারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে ৯৯ লাখ ৪ হাজার ১৭১ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যবহার করা হচ্ছে বালু- যা আনা হচ্ছে নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদী থেকে। গত ২৬ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ০২ ডিসেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুজ্জামান রিশাদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করে দেন এবং ঠিকাদার ও মেম্বারের কাছ থেকে মুচলেকা নেন।

কিন্তু বাস্তবে থামেনি ড্রেজার। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে ড্রেজারের পাইপলাইনের কিছুই অপসারণ করা হয়নি। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কালিগঞ্জে দিনে মেশিন বন্ধ রাখে দেখানোর জন্য। রাতে আবার পুরোদমে চলে। সিন্ডিকেটকে কেউ থামাতে পারে না। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, এগুলোর কাজ এভাবেই হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এই বক্তব্য পুরোপুরি অস্বীকার করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসমাইল হোসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এসবের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ।নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ বলেন, অবৈধ উত্তোলন বন্ধ করেছি, মুচলেকা নিয়েছি। যদি আবার চালায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনার মাধ্যমে জানলাম- আমরা এটার ব্যবস্থা নিচ্ছি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। এখন জানলাম, ব্যবস্থা নিচ্ছি।