কী উদ্দেশ্যে গৃহকর্মীর কাজ নিলেন ও সঙ্গে চাকু রাখলেন, চাঞ্চল্যকর তথ্য আয়েশার
- আপডেট সময় : ১১:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে খুনের ঘটনার নেপথ্যে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যার আগের দিন চুরি করা মাত্র দুই হাজার টাকা নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে বিবাদই শেষ পর্যন্ত দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। এই ঘটনায় গৃহকর্মী মোছা. আয়শা এবং তার স্বামী রাব্বিকে গতকাল বুধবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যা ঘটেছিল সেই দিন
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ গৃহকর্মী আয়শার আগের দিনের দুই হাজার টাকা চুরির বিষয়টি টের পেয়েছিলেন। ফলে ঘটনার দিন লায়লা গৃহকর্মীকে চোখে চোখে রাখছিলেন।
ঘটনার দিন যখন আয়শা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন লায়লা তাকে ধরে ফেলেন।
তিনি আয়শাকে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখালে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এই সময় আয়শা ক্ষুব্ধ হয়ে লায়লা আফরোজকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
মাকে বাঁচাতে লায়লার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ এগিয়ে এলে, তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে আয়শা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চুরির বিষয়টিই হত্যার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, আয়শা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে, তার চুরির পরিকল্পনা থাকলেও হত্যার কোনো ইচ্ছা ছিল না।
সে আত্মরক্ষার জন্য নিজের বাসা থেকে সুইচ গিয়ার চাকু সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল।
হত্যায় ব্যবহৃত অপর ছুরিটি লায়লা আফরোজের বাসাতেই ছিল।
মা-মেয়েকে হত্যার পর আয়শা আসাদগেট হয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে স্বামীর কাছে যায় এবং পরে রাতে একই এলাকায় তার মায়ের বাসায় চলে যায়।
পরদিন সে ঝালকাঠির নলছিটিতে দাদাশ্বশুরের বাড়িতে আত্মগোপনে যায়। সেখান থেকেই গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গৃহকর্মী হিসেবে ভুল তথ্য দিয়েছিল আয়শা
এদিকে, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, কাজে যোগ দেওয়ার সময় গৃহকর্মী আয়শা নিজের পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল।
সে জানিয়েছিল তার বাবা-মা অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন, অথচ তারা জীবিত।
আয়শা দাবি করেছিল সেও ওই আগুনে দগ্ধ হয়েছিল, কিন্তু তার এখনকার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়,যার ফলে তার শরীরে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে।
জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকার তথ্যটিও সঠিক নয়। দেড় বছর আগে সে সেখানে ভাড়া থাকলেও বর্তমানে হেমায়েতপুরে স্বামী ও দুই বছর বয়সী সন্তানের সঙ্গে থাকে।
মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় আরও গভীরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ, যাতে চুরির বাইরে অন্য কোনো মোটিভ থাকলে তা বেরিয়ে আসে।



















