
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঞ্চল্যকর শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলায় আত্মগোপনে থাকা শুভর সহযোগী হিসেবে পরিচিত সোয়াদকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মিশনপাড়া স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটকের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আটক সোয়াদ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের অভিযানে ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর সময় নিহত শুভ চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কক্ষটি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো, তা নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শুভ চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, তাকে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে হত্যার অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুভর সঙ্গে সোয়াদের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে তার ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিশনপাড়ার ওই ফ্ল্যাটে শুভর উপস্থিতি, কথিত গোপন কক্ষের ব্যবহার এবং সেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত বা তথ্য সংরক্ষিত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তবে সোয়াদকে আটকের ঘটনা এবং ফ্ল্যাটে কথিত ‘গোপন কক্ষ’ পাওয়ার বিষয়ে ডিবি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, জব্দ তালিকা কিংবা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলোকে তদন্তাধীন তথ্য ও অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
এদিকে শুভ হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে এরই মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা পরিকল্পনায় ছিল এবং ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লাল হোসেনকে গত ৫ সেপ্টেম্বর চাষাঢ়ায় গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পরে রিমান্ডে থাকা এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধারের কথাও জানিয়েছিল পুলিশ।
সোয়াদকে আটকের পর মিশনপাড়ার ওই ফ্ল্যাটে পাওয়া কথিত গোপন কক্ষ এবং এর সঙ্গে শুভ হত্যা মামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—তদন্ত শেষ হলেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।